
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া থানার অন্তর্গত ৩নং ভাটেরা ইউনিয়নের নওয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা কুটি মিয়ার ছেলে আব্দুল আজিজ, তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র একজন কর্মী।
ঘটনার দিন গত শুক্রবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ভাটেরা ষ্টেশন বাজারে দলীয় অফিসে তাদের জরুরী মিটিং শেষ করে রাত অনুমান ১ টার দিকে ষ্টেশন বাজার থেকে ভিকটিমের বাড়ী নওয়াগাও গ্রামে ফেরার পথে রাস্তার মাঝামাঝি জায়গায় রাস্তা নিকটবর্তী একটি পরিত্যাক্ত ঝোপ-ঝাড়ের পাশে আসা মাত্রই পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা সমূহ সন্ত্রাসী বাহিনী আব্দুল আজিজকে আক্রমণ করে তার হাত-পা ও মুখ বেঁধে ঝোপ-ঝাড়ের মধ্যে জঙ্গলে নিয়ে যায় এবং ধারালো চাপাতি, হকিষ্টিক ও রড দিয়ে বেধরক মারপিট শুরু করে।
ঠিক সেই মূহূর্তে ভাটেরা ষ্টেশন বাজার হতে দুই ব্যবসায়ী পথচারী কুলাউড়া থানার অন্তর্গত ৩নং ভাটেরা ইউনিয়নের বেরকুড়ি গ্রামের বাসিন্দা আপন দুই ভাই আজিম উদ্দিন ও মোঃ মাহবুবুর রহমান ভাটেরা ষ্টেশন বাজার থেকে বাড়ী ফেরার পথে ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে যাবার কালে কিছু মানুষের কলরব ও ঘুঙ্গানি শুনতে পান। তখন তাদের হাতে থাকা টর্চ লাইটের আলো ঘটনাস্থলের দিকে প্রতিফলিত হওয়ার সাথে সাথেই দেখতে পান সমূহ সন্ত্রাসী বাহিনী ভিকটিমকে বেধরকভাবে পিটাচ্ছে।
উক্ত ঘটনা অবলোকন করার সাথে সাথেই সমূহ আসামীগণের মধ্য হতে কাশেম, আলম ও রহমত উক্ত পথচারীদের ঘিরে ফেলে এবং তাদেরকেও মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে হুমকি প্রদর্শন করে যে, এ ঘটনা কাউকে বললে তাদেরকেও মেরে ফেলবে বলে হুশিয়ারি করে। তখন পথচারীরা চলে গেলে সমূহ আসামীগণ আব্দুল আজিজকে মেরে জঙ্গলের মধ্যে ফেলে চলে যায়।
পরদিন সকাল উক্ত নওয়াগাও গ্রামের রাখাল ছেলেরা গরু চড়াতে গিয়ে আব্দুল আজিজের লাশ দেখতে পায় এবং চিনতে পেরে ভিকটিমের পিতাকে খবর দেয়। ভিকটিমের পিতা কুটি মিয়া ঘটনাস্থলে এসে তার ছেলের লাশ সনাক্ত করে এবং কুলাউড়া থানা পুলিশকে উক্ত ঘটনা অবহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে রোববার (১২ ফেব্রুয়ারি) এ ব্যাপারে ভিকটিমের পিতা কুটি মিয়া বাদী হয়ে কুলাউড়া থানার একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন যে, আসামীগণ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সমর্থিত সন্ত্রাসী বাহিনী, তাদের দলীয় কোন্দলের কারণেই এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আমার বিশ্বাস। তবে আসামীদের দ্রুত গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত আছে।