
চিড়িয়াখানায় চাকরি করি, রাখি বাঘের খেয়াল,
তার একপাশে সিংহমামা, অন্যপাশে শেঁয়াল।
বাঁশের বেড়া ছিলো তাদের সবার খাঁচার অন্ত,
হুংকার দেয় বাঘ-সিংহ দেখিয়ে ধাঁরাল দন্ত।
ইতিহাসে ‘এম এ’ দিয়ে পড়াশুনার শেষে,
চাকরি পাওয়ার জন্যে চষে বেড়াই সারাদেশে!
কিন্তু কি এক অদৃষ্ট! চাকরি সোনার হরিণ,
ঘুষ ছাড়া তা যায়না পাওয়া, সুদ না দিলে ঋণ!
অবশেষে চাকরি পেলাম চিড়িয়াখানায় এসে,
হিংস্র মানব ছেড়ে এবার হিংস্র পশুর দেশে!
আমায় ওরা কাজ দিয়েছে রাখতে বাঘের খেয়াল,
বাঘ সিংহের মাঝে কেবল নড়বড়ে এক দেয়াল।
বাঘকে খাওয়াই, গোসল করাই, আরো নানান কাজ,
এমন দিনে হঠাৎ আমার মাথায় পড়ে বাজ!
বাঘের খাঁচায় গিয়ে দেখি বাঘটা গেছে মরে!
চাকরি চলে গেলে আমি চলবো কেমন করে?
অনেক কাঁদার পরে ওরা বললো সবে আমায়,
বাঘ মরলেও কেমনে তারা বাঘের খেলা থামায়?
অনেক দর্শক এসে উপভোগ করে এই খেলা,
বললো আমায় তুমিই যদি বাঘ সাজো এই বেলা!
তবেই তুমি বহাল রবে চিড়িয়াখানার চাকরিতে,
উপায় নেই আর তাইতো আমার হলো সম্মতি দিতে।
বাঘ সেজে রোজ খেলা দেখাই, করি বিকট হুংকার,
দর্শকরাও আমার সাথে তুলে মধুর ঝংকার।।
এইভাবে লাফ দিতেই হঠাৎ ভেঙে বাঁশের দেয়াল,
সিংহমামার-খাঁচায় পড়ে হলো আমার খেয়াল!
বিশালদেহী সিংহ হেঁটে আসছে আমার কাছে,
ঘেমে-নেয়ে কলমা পড়ি! জানটা গেলো পাছে।
অবাক হয়ে দেখলাম সেই সিংহ কাছে এসে,
পুরূষালি ভরাট গলায় একটুখানি কেঁশে।
বললো আমায়- ভয় কেন পাও, উঠছো কেন ঘেমে?
আমিও ভাই তোমার মতো- “ইতিহাসে এম এ।”