
একটি বছর দু’হাজার বিশ-
ঢেলে দিয়েছিলো অন্তরে বিষ,
ষোলই আগষ্ট বিষময় দিন-
ভাবলেই বুক করে চিন্ চিন্
বিদায় নিলেন আব্বা তখন এই ধরণী থেকে,
মহামারি করোনা রোগ ধরলো তাকে জেকে।
সকালবেলা আমার হাতেই চা নাস্তা খেলেন,
আম্মা নিজেই ঘামেভেজা কপাল মুছে দিলেন!
বুঝতে পারিনি তো এটা শেষ বিদায়ের ঘাম,
পরে আমি দুরূদ শরীফ তার মুখে শুনলাম।
মুমিন বান্দা ইন্তেকালের সব আলামত এতে,
জিকির পড়ে দেখলাম উনি দুনিয়া থেকে যেতে।
এজন্য রব তাকে যেন মর্তবা দেন শহীদের,
কান্নাভেজা চোখে সদা এই দোয়াটাই আমাদের।
এরপরে দশমাস হয়ে যায় হঠাৎ খবর পাই,
দাদীর নাকি করোনা! আর বাঁচার আশাও নাই।
নিয়ে গেছেন সবাই তাকে হাসপাতালে আজ,
পরের দিনেই প্রাণটা নিতে এলেন যমরাজ!
তসবীহমালা, পানের বাটা সবই তেমন আছে,
দাদামণিই চলে গেলেন বড় ছেলের কাছে।
মা ও ছেলে দুজন পেলেন শহীদ হওয়ার মালা,
একমাস পর এবার এলো চাচ্চু যাবার পালা!
মা’র বিদায়ের একমাস পর ছেলেও হলেন গত,
হারিয়ে তাদের অশ্রুমালা ঝরছে অবিরত।।।
এক করোনাই কেড়ে নিলো তিন স্বজনের প্রাণ,
একের ভিতর তিনজনকেই আমরা হারালাম।
এতিম হলাম আমরা সবাই এক বছরের মাঝে,
আম্মা-চাচী কেঁদেই ব্যাকুল সকাল-দুপুর সাঁঝে।
মহামারীর মৃত্যু সে তো শহীদী এক মরণ,
আল্লাহ্ যেন সমাদরে করেন তাদের বরণ।
দু হাত তুলে প্রার্থনা হে রহিম দয়াময়,
তিন স্বজনের ভাগ্যে যেন ভেস্ত নসীব হয়।
লেখক ও কবি -শাকেরা বেগম শিমু প্রবাসী