
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ১০নং চাঁদপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের পাপলা গ্রামে চাঁদপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও বর্তমানে যুক্তরাজ্য প্রবাসী মোহাম্মদ আজিজুল হকের পৈত্রিক বাড়িতে গভীর রাতে এক নিদারুণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির চিত্র ফুটে উঠেছে।
আজিজুল হক দেশ ছাড়লেও স্থানীয় প্রতিপক্ষ এবং প্রশাসনের অতি-তৎপরতায় তার বৃদ্ধ পিতা-মাতাসহ পুরো পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
পারিবারিক ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের ২১ মার্চ গভীর রাতে আনুমানিক ২:৩০ ঘটিকায় ২০/২৫ জনের একদল মুখোশধারী সশস্ত্র দুষ্কৃতকারী কুড়াল দিয়ে দরজা কেটে আজিজুলের বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা ঘরে ঢুকে আজিজুলের ভাই ও বোনের পড়ার ঘর ও শোবার ঘর ভাঙচুর করে এবং আজিজুলের পাসপোর্ট, সার্টিফিকেট ও পলিটিক্যাল ডকুমেন্টস খোঁজার নামে তাণ্ডব চালিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়। আজিজুলকে না পেয়ে প্রতিপক্ষের মূল লিডার তার বৃদ্ধ পিতা মোঃ ফজলুল হকের মাথায় ও কপালে পিস্তল ঠেকিয়ে হুমকি দেয় যে, আজিজুল যদি যুক্তরাজ্যে বসে ফেসবুকে সরকারের সমালোচনা ও আইনি প্রক্রিয়া বন্ধ না করে, তবে তাকে ও তার স্ত্রীকে গুলি করে মেরে লাশ গুম এবং বাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হবে। এই বর্বরোচিত ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আজিজুলের বোনও এর অন্যতম সাক্ষী। মৃত ইয়াকুব আলীর পুত্র মোঃ ফজলুল হক তার ছেলের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য সরকারের নিকট আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
এদিকে এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গত ৫ মার্চ চাঁদপুর ইউনিয়নে একটি রাজনৈতিক সমাবেশকে কেন্দ্র করে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়েরকৃত একটি কাল্পনিক ও মিথ্যা নাশকতা মামলায় মামলা নং-১৪, তারিখ: ০৭/০৩/২০২৬ মোহাম্মদ আজিজুল হককে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তিনি বিদেশে অবস্থান করা সত্ত্বেও তাকে ১ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি করে কাপাসিয়া থানা ও ডিবি পুলিশের একাধিক টিম পাপলা গ্রামে ২১ মার্চ ২০২৬ থেকে অনবরত গভীর রাতে ‘চিরুনি অভিযান’ চালাচ্ছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, তল্লাশির নামে গভীর রাতে ঘরের নারীদের হয়রানি করা হচ্ছে এবং পুলিশ ও ডিবির গাড়ি প্রতিনিয়ত বাড়ির সামনে এসে হর্ন দিয়ে প্রতিবেশীদের হুমকি দিচ্ছে। ফলে গ্রেফতারি আতঙ্ক এবং মিথ্যা অস্ত্র বা মাদক মামলায় ফেঁসে যাওয়ার আশঙ্কায় পুরো পরিবার এখন নিজেদের বাড়ি ছেড়ে আত্মীয়দের বাড়িতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, আজিজুল হক একজন দাগী রাজনৈতিক অপরাধী এবং তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। বর্তমানে এই বর্বরোচিত ঘটনা ও ঘন ঘন পুলিশি অভিযানের কারণে পুরো পাপলা গ্রামে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।