চট্টগ্রাম, ২৬ নভেম্বর ২০২৪: চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় ইসকন (ইন্টারন্যাশনাল শ্রীকৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ) সমর্থকদের হামলায় সাইফুল ইসলাম আলিফ নামক এক আইনজীবী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। হামলায় আরও ৭-৮ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ এনামুল। তিনি জানান, সাইফুল ইসলাম আলিফ আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন এবং ২০১৮ সালে জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ লাভ করেন। পরে তিনি হাইকোর্টের আইনজীবী হিসেবেও নিবন্ধিত হন। সম্প্রতি তাকে চট্টগ্রাম আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।
গত সোমবার (২৫ নভেম্বর) শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সদস্যরা ইসকন সংগঠকের সদস্য চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে গ্রেপ্তার করেন। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পাঠানোর পর, মঙ্গলবার সকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত জামিন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
চিন্ময় কৃষ্ণের জামিন না মঞ্জুরের পর তার অনুসারীরা চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করে। তারা আদালত ভবনের প্রিজন ভ্যান আটকে দেয় এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। পরে বিক্ষোভকারীরা আদালত এলাকায় বিভিন্ন দোকান, মসজিদ, মোটরসাইকেলসহ আরও প্রতিষ্ঠান হামলা চালায়। এ সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফসহ অন্যরা হামলার শিকার হন।
পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য অভিযান শুরু করে এবং বিক্ষোভকারীদের সরানোর চেষ্টা করে। কিন্তু পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায়, চট্টগ্রাম আদালতসহ আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফজলুল কাদের জানিয়েছেন, “বিশৃঙ্খলাকারীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে এবং তদন্ত চলছে।”
এই ঘটনায় আইনজীবী সমাজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং তাদের একাংশ তাদের সহকর্মী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে।
চট্টগ্রাম শহরের পরিস্থিতি বর্তমানে থমথমে, এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরো এলাকা নিরাপদ রাখতে কাজ করছে।