1. mail@taher.com.bd : admin :
  2. mbeanibazar@gmail.com : admininstaff :
  3. somoychitro@gmail.com : foyzul huque : foyzul huque
  4. habibaakther939@gmail.com : রিপোর্টার : হাবিবা আক্তার
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০৪:২৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
মোহাম্মদপুরে আওয়ামী যুব মহিলা লীগ নেত্রী নুসরাত জাহান পর্না’র বাসায় হামলা কসকনকপুর শ্যামলী প্রবাসী ঐক্য পরিষদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন ডিআইজির নির্দেশে বিয়ানীবাজারে পুলিশের বিশেষ চেকপোস্ট ও সাড়াঁশি অভিযান বিয়ানীবাজারে বিপুল পরিমান ইয়াবাসহ একজন গ্রেফতার প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতে উচ্ছ্বসিত বিয়ানীবাজারের আমিনুল এনআইডি সংশোধন: ঢাকায় ডেকে চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে ইসি ইটালী যাত্রা ইস্যু: বিয়ানীবাজারে দেলওয়ার-পাওনাদার পাল্টাপাল্টি মামলা বিয়ানীবাজারে ধান রক্ষায় কৃষকদের প্রাণপণ চেষ্টা ‘দুলাভাই’ ‘দুলাভাই’ শ্লোগানে মুখর সিলেটের বাসিয়ার তীর প্রকল্প বন্ধ: অলস পড়ে আছে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সরকারি গাড়ি বিএনপি সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে জামায়াত এনসিপি ঐক্যবদ্ধ

মুনতাহা হত্যাকাণ্ড নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল পুলিশ

‍স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশিত : রবিবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৪

স্টাফ রিপোর্টার :
সাবেক গৃহশিক্ষিকা, তার মা ও নানী তিনজন মিলেই হত্যা করে সিলেটের কানাইঘাটের পাঁচ বছরের শিশু মুনতাহা আক্তার জেরিনকে। হত্যার পর মরদেহ প্রথমে মাটিতে পুঁতে ফেলেন তারা। রোববার (১০ নভেম্বর) ভোরে মাটিতে পুঁতে ফেলা লাশ তুলে মুনতাহার চাচার বাড়ির পুকুরে ফেলার সময় হাতেনাতে গৃহশিক্ষিকার মাকে আটক করেন স্থানীয়রা। এ সময় গলায় রশি পেঁচানো অবস্থায় মুনতাহার লাশ দেখতে পান স্বজনরা।

এ ঘটনায় শিশু মুনতাহার গৃহশিক্ষিকা শামীমা বেগম মার্জিয়া, তার মা আলিফজান বিবি ও নানি কুতুবজান বিবিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সিলেট জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার কানাইঘাট (সার্কেল) অলক কান্তি শর্মা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার (৯ নভেম্বর) রাতে সন্দেহজনকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিশু মুনতাহার গৃহশিক্ষিকা শামীমা বেগম মার্জিয়াকে থানায় নেয় পুলিশ। এ সময় তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে মার্জিয়ার বাড়িতে মুনতাহার সন্ধানে তল্লাশি চালান স্থানীয়রা। রাত সাড়ে ৩টার দিকে মার্জিয়ার বাড়ির আশপাশে তল্লাশি চালানোর এক পর্যায়ে মার্জিয়ার মা আলিফজান বিবিকে অন্ধকারের মধ্যে রাস্তা পার হতে দেখেন। এ সময় তাকে আটকাতে চাইলে তিনি দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয়রা কাদামাটি মাখা মুনতাহার লাশ দেখতে পান। পরে মার্জিয়ার মাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন স্থানীয়রা।
কানাইঘাট সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন আহমদ বলেন, মুনতাহার নিখোঁজের পর থেকে পুলিশ আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছিল। কিন্তু কোনো ক্লু পাচ্ছিল না। শনিবার স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে মার্জিয়ার আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। পরে রাতে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়। এরপর স্থানীয় ইউপি সদস্যকে মার্জিয়ার বাড়ির আশপাশে মাটি খোঁড়া আছে কি না খোঁজ নিতে বলেন।

তিনি বলেন, মুনতাহার স্বজনসহ স্থানীয়রা রোববার রাতভর মাটিখোঁড়া কোনো জায়গা আছে কি না খুঁজতে থাকেন। ফজরের আজানের আগ মুহূর্তে মার্জিয়ার মা আলিফজান বিবিকে হঠাৎ অন্ধাকারের মধ্যে রাস্তা পার হতে দেখেন। এ সময় তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্ঠা করলে স্থানীয়রা তাকে আটক করেন। পরে কাদামাটি মাখা মুনতাহার লাশ দেখতে পান। আটকের পর তিনি জানান, লাশ প্রথমে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছিল। রাতে সেখান থেকে মরদেহ তুলে মুনতাহার চাচার বাড়ির পুকুরে ফেলতে চেয়েছিলেন তিনি।

চেয়ারম্যান আরো বলেন, মার্জিয়া মুনতাহার প্রতিবেশী। একসময় ভিক্ষা করতেন মার্জিয়ার মা ও নানী। মুনতাহাকে বাড়িতে পড়াতেন মার্জিয়া। মার্জিয়াকে তার স্বামী ছেড়ে চলে গেছেন। ফলে বাড়ির বাইরে গেলে মুনতাহাকে সঙ্গে নিতেন মার্জিয়া। সবাই তাকে বিশ্বাসও করতেন। তবে কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে তা জানা যায়নি। সম্প্রতি মার্জিয়ার পরিবারের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছিল বলে জানতে পেরেছি।

কানাইঘাট থানার ওসি আব্দুল আউয়াল বলেন, মুনতাহার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বাড়ির পাশে প্রতিবেশী মার্জিয়া আক্তার ও তার মা আলীফজান মিলে তাকে হত্যা করেছে।

তিনি বলেন, মুনতাহাকে গত রোববার (৩ নভেম্বর) অপহরণ করার পর হত্যা করা হয়। ওইদিনই তাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার পর মরদেহ ঘরের পাশের একটি খালে কাঁদামাটিতে চাপা দিয়ে রাখা হয়। রোববার ভোরে আলীফজান বেগম মরদেহ সরানোর চেষ্টাকালে স্থানীয়রা দেখে ফেলেন। এ সময় স্থানীয় থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। এ সময় মর্জিয়া, তার মা ও নানিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে আলীফজান ভিক্ষাবৃত্তি করতেন। তবে কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
ওসি আব্দুল আউয়াল আরো বলেন, শনিবার (১০ নভেম্বর) দিনগত রাত ১২টার দিকে মর্জিয়াকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও কোনো তথ্য উদঘাটন করা যায়নি। বরং সহজভাবে হেসে হেসে উত্তর দেয়। এরপর ভোররাতে লাশ উদ্ধারের পর তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মুনতাহার লাশ খাল থেকে সরিয়ে নিয়ে পাশ্ববর্তী পুকুরে ফেলার চেষ্টা করে। মুনতাহার লাশ পুকুরে ফেলে ঘটনা অন্য দিকে প্রবাহিত করা হত্যাকারীদের উদ্দেশ্য ছিল।

গত ৩ নভেম্বর সকালে মেয়ে ও ছোট ছেলেকে নিয়ে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ওয়াজ মাহফিল থেকে বাড়ি ফেরেন শামীম আহমদ। এরপর মুনতাহা প্রতিবেশী শিশুদের সঙ্গে খেলতে যায়। বিকেল ৩টার দিকে তাকে খুঁজতে গিয়েও কোনো সন্ধান পায়নি পরিবার। খেলার সাথীরাও মুনতাহার বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি।
সে সময় ছোট্ট শিশু মুনতাহার সন্ধান দাতাদের জন্য দেশ-বিদেশ থেকে পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন অনেকেই। মুনতাহার সন্ধান এবং ‘অপহরণকারীকে’ ধরিয়ে দিতে পারলে এক লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন কয়েকজন প্রবাসী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তারা এ ঘোষণা দেন। এ ছাড়া ফারমিস আক্তার নামের সিলেটের এক নারী সমাজকর্মী মুনতাহার সন্ধানদাতার জন্য একটি স্বর্ণের চেইন পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন। তখনই পরিবারের সদস্যরা সন্দেহ করেছিলেন, মুনতাহাকে অপহরণ করা হয়ে থাকতে পারে।

Share this news as a Photo Card

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

© ২০২৪ নিউজমিরর২৪.কম সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

বিএনপি সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে জামায়াত এনসিপি ঐক্যবদ্ধ

15 April 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
newsmirror24.com