
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার ধানমন্ডি থানা শাখার সভানেত্রী কাকলী আক্তার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
তার স্বামী মাহমুদ হোসাইন গত ৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। নিখোঁজের পর কাকলীর পরিবারের সদস্যদের ওপর একাধিকবার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান এবং নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
পরিবারের দাবি, ৩ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টার দিকে কাকলীর সঙ্গে সর্বশেষ কথা বলেন মাহমুদ হোসাইন। ওইদিন তিনি শ্বশুরবাড়িতে দুপুরের খাবারে আসার কথা থাকলেও আর আসেননি। পরবর্তীতে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তার কোনও খোঁজ মেলেনি।
এদিকে ৩ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১২টা ৪০ মিনিটে কাকলীর বাবার বাসায় ৬-৭টি গাড়িতে করে র্যাব ও পুলিশের সদস্যরা অভিযান চালায়। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরনের গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই বাসায় ঢুকে কাকলীর খোঁজে তল্লাশি চালায়। তাকে না পেয়ে ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং কাকলীর বাবাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।
কাকলী সে সময় আতঙ্কে বাসার স্টোর রুমে লুকিয়ে ছিলেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর বাবা বলেন, “আমার মেয়ের কোনো দোষ নেই, তারপরও ওকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আমি ধানমণ্ডি থানায় জিডি করতে গেলেও তা করতে দেওয়া হয়নি বরং উল্টো হুমকি দেওয়া হয়েছে যে থানায় গেলে আমাকেই গ্রেফতার করবে।
পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনাকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের অভিযোগ, নারীদের উদ্দেশ্য করে গভীর রাতে অভিযান, গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়া বাসায় প্রবেশ এবং পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা দেশের আইন এবং মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
৫ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাহমুদ হোসাইনেরও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবার দাবি করছে, মাহমুদ হোসাইন বেশ কিছুদিন ধরেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন এবং তাকে পরিকল্পিতভাবে গুম করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছে তারা।
এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাদের স্বজন ও জামায়াত-ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক নেতাকর্মীরা। তারা দ্রুত মাহমুদের সন্ধান ও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।