
মৌলভীবাজারের জুড়ীতে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন আয়োজিত ছাত্র-জনতার বিজয় মিছিল পরবর্তী সমাবেশে হামলা চালিয়েছে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এতে একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। গত শনিবার (১২ আগস্ট) বিকেলে জুড়ী উপজেলা সদরে এই ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনায় নিহত তারেক আহমদের পিতা উপজেলার মির্জাপুর এলাকায় বাসিন্দা জমির উদ্দিন বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ২২ নেতাকর্মীর নামোল্লেখ সহ ৪০/৫০ জনকে আসামী করা হয়েছে।
এজহার নামীয় আসামীরা হলেন, উপজেলার ছনবাড়ী এলাকার মৃত মাশুক মিয়ার ছেলে আওয়ামীগ নেতা নজরুল ইসলাম (৩২), একই উপজেলার সেনটিলা এলাকার ফিরোজ আলীর ছেলে আছাদ (৩০), সেনটিলা এলাকার ফয়জুর রহমান চড়াই’র ছেলে আরব আলী (৪৩), আনন্দপুর এলাকার শামসুল হকের ছেলে বকুল (৪০), শ্রীপুর এলাকার- নাজিম উদ্দিনের ছেলে ফয়জুর রহমান দুলু (৪২), লাতু এলাকার মৃত শরীয়ত উল্ল্যাহ’র ছেলে সাইফুর রহমান (৫৫), ভোগতেরা এলাকার এলাইছ মিয়ার ছেলে মিজানুর রহমান (২৫), দাসের বাজার এলাকার ছোয়াব আলীর ছেলে আফরোজ আলী (৩৫), পশ্চিম ফুলতলা এলাকার মন্দির আলীর ছেলে ইলিয়াছ (৪৫), মির্জাপুর এলাকার আং সালামের ছেলে রিয়াজ আহমদ রিপন (৩৭), সেনটিলা এলাকার হরিন্দ্রলাল দত্তের ছেলে দিবাংশু দত্ত বিশু (৪৫), শাহগঞ্জ এলাকার আছকর আলীর ছেলে ছাওয়াত হোসেন (৫০), রাজকান্দি এলাকার মবারক আলীর ছেলে মুতলিব (৩৫), দত্তগ্রাম এলাকার সজিদ মিয়ার ছেলে দবির (৪০), সেনপুর এলাকার আং মমিনের ছেলে এম,এ, হান্নান বদরুল (৪৫), ভৈরবগঞ্জ এলাকার আং করিমের ছেলে ছাদিক মিয়া (৩২), গোয়ালবাড়ী এলাকার খোরশেদ আলমের ছেলে ময়নুল ইসলাম, রাজকান্দি এলাকার হানিফ আলীর ছেলে বাবুল মিয়া (৩৫), জাঙ্গীরনগর এলাকার মহি উদ্দিন (মুতলিব)’র ছেলে সাহাব উদ্দিন (৩৫), দত্তগ্রাম এলাকার মানিক মিয়ার ছেলে রুবেল (২৮), ফুলতলা এলাকার মজিদ মিয়ার ছেলে হোসাইন (২৬) গংসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪০/৫০ জন।
স্থানীয় ও মামলা সুত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বেলা ২টার দিকে জুড়ী উপজেলা সদরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্র জনতা ও বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ বিজয় মিছিল ও সমাবেশের জন্য জড়ো হয়। এসময় স্থানীয় আওয়ামীলীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ছাত্র জনতার উপর হামলা চালায়। হামলায় তারেক আহমদ নামে নামের একজনের মাথায় গুলিবিদ্ধ হলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পড়ে হামলাকারীরা তাকে মৃত ভেবে জুড়ী থানা বাউন্ডারী ওয়ালের বাহিরের পাশের ঝোপের ভিতরে ফেলে যায়। পরে তার পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুজির পর ওইদিন গভীর রাতে মৃত অবস্থায় পান। এমন অভিযোগ এনে তারেক আহমদের পিতা জমির উদ্দিন জুড়ী থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে জুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ সামছুল ইসলাম জানান, ছাত্র জনতার বিজয় মিছিলে হামলায় একজন নিহতের ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।