বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি :
বিয়ানীবাজারে চাঞ্চল্যকর চিনি ছিনতাই কান্ডে জড়িত হিসেবে নাম এসেছে উপজেলা, পৌর ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক-বর্তমান নেতাদের। ছিনতাই পরবর্তী কে কত বস্তা চিনি নিয়েছেন, তাও অডিও রেকর্ডে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনা থেকে রেহাই পেতে একজন অপরজনের সহায়তা চেয়ে অসহায়ত্ব প্রকাশ করছেন। কিভাবে মামলা থেকে বাঁচা যায়, তাও তাদের আলোচনায় স্থান পেয়েছে। ঘটনায় জড়িত ছাত্রলীগ নেতাদের নিজেদের কথোপকতনে ওঠে এসেছে সংশ্লিষ্ট অনেকের নাম। চিনি ছিনতাই এবং অডিও রেকর্ডের আলোচনা এখন বিয়ানীবাজারবাসীর মুখে মুখে।
জানা যায়, চিনি ছিনতাই পরবর্তী এর মালিক বদরুল ইসলামকে মামলা না দিতে কারা ভয়ভীতি দেখিয়েছেন, কারা বিষয়টি প্রভাবিত করতে চেয়েছেন কিংবা সমঝোতার নামে নাটক করেছেন কারা-তাও ভয়েস রেকর্ডে স্পষ্ট ফুটে ওঠেছে। নিজেদের মধ্যে আলোচনায় সাগর, তাহমিদ, মুন্না, জুনেদ, সাব্বির, রুবেল, সালা উদ্দিন, সাকেল, নাবিলসহ চিনি ভাগাভাগিতে কারা ছিলেন তাদের নাম প্রকাশ পেয়েছে। কথোপকতনের এক সময় একজন অন্যজনের কাছে বলছেন-‘ছোট গাড়ি অইলে খাইলিলে অসুবিধা আছিলনা। বড় গাড়ি হওয়ায় সমস্যা অই গেছে। তাছাড়া সিএনজি ফোরষ্ট্রোকে বোঝাই করে চিনি নিয়ে যায় ছাত্রলীগ কর্মীরা।’ তারা এও বলছেন, ৪০০ বস্তা চিনি থেকে যদি ২০০-২৫০ বস্তা ফিরিয়ে দেয়া যায়, তাহলে আপাতত বাঁচা যাবে।’ মামলায় কোন আসামীর নাম থাকবে আরকে বাদ যাবে তাও বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে রেকর্ডে প্রকাশ পেয়েছে। জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য সুমন নামের একজনের নামও মধ্যস্থতায় এসেছে। সিলেট শহরে ৮০-১০০বস্তা চিনি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই চিনি কার কাছে গেছে তাও জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
চিনির মালিক বদরুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, ভিডিও ফুটেজ এবং কথোপকতনের এমন রেকর্ড থাকার পরও পুলিশ প্রকৃত আসামীদের মামলা থেকে বাদ দিয়েছে। বর্তমান মামলায় ভয়েস রেকর্ডে যাদের নাম এসেছে, তাদের সবাইকে গ্রেফতার করার দাবী জানান। তিনি অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পর তাকে খুন করার হুমকি দেয়া হচ্ছে। তিনি অবিলম্বে আত্মস্বীকৃত ছিনতাইকারীদের গ্রেফতার করতে পুলিশের কাছে দাবী জানান।
চিনির মালিক বদরুল ইসলাম বলেন, চারখাই বাজারে তার ব্যবসা প্রতিষ্টান রয়েছে। গত কয়েকদিনে তিনি সরকারের বিধি অনুযায়ী বিভিন্ন স্থান থেকে ১৪৭৭ বস্তা চিনি নিলামের মাধ্যমে ক্রয় করেন। ওই চিনি থেকে ৪শ’ বস্তা চিনি তিনি জনৈক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেন। শনিবার দুপুরে একটি ট্রাক বোঝাই করে বিক্রিত চিনি অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার সময় ঘটনাস্থলে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে। তিনি অভিযোগ করেন, ১৫-১৬ জনের ছিনতাইকারী চক্র একটি প্রাইভেট কার, ৪টি মোটর সাইকেল এবং একটি পিকআপ নিয়ে চিনি বোঝাই ট্রাকের গতিরোধ করে। ছিনতাই হওয়া চিনির বাজার মূল্য প্রায় ২৪ লাখ টাকা। ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটর সাইকেলও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানায়, ছিনতাই ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে ৮০ বস্তা চিনি, একটি পিকআপ (ঢাকামেট্রো-ঠ ১১০৭০৯) উদ্ধার ও এজাহারনামীয় দুই আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন থানার হোসাইনপুর গ্রামের (বর্তমানে পৌরশহরের দাসগ্রাম লিচুটিলা ছাত্তার মিয়ার বাড়ীর ভাড়াটিয়া) মো: খলিল মিয়ার ছেলে মো: লিটন মিয়া (২৬) ও মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা শাহবাজপুর এলাকার বোবারতল গ্রামের (বর্তমানে সুপাতলা) মোস্তফা উদ্দিনের ছেলে হাসান (২১)। এরমধ্যে লিটন পেশাদার অপরাধী। তার বিরুদ্ধে বিয়ানীবাজার থানায় ডাকাতির আরো মামলা আছে।
বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দেবদুলাল ধর জানান, বিভিন্ন মাধ্যম থেকে যাদের নাম আসছে, সবক’টি নাম আমরা নোট করছি। সবাইকে নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। এদিকে
চিনি ছিনতাইয়ে জড়িত থাকার অপরাধের বিয়ানীবাজার উপজেলা ছাত্রলীগ ও পৌর ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদ ১৪জুন শুক্রবারে এক প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই ২ ইউনিট এর কমিটি বাতিল করেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান কমিটি বাতিল করে বলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের জরুরি সিদ্ধান্ত মোতাবেক জানানো যাচ্ছে যে, সংগঠনের শৃঙ্খলা ও মর্যাদা পরিপন্থী এবং অপরাধমূলক কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বিয়ানীবাজার উপজেলা শাখা, সিলেট এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বিয়ানীবাজার পৌর শাখা, বিয়ানীবাজার, সিলেট এর কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো।