স্টাফ রিপোর্টার:
সিএনজিচালিত অটোরিকশার চাকা ঘুরলেই দিতে হয় ১০০ টাকা। দূরত্ব একটু বেশি হলেই ভাড়া বেড়ে যায় কয়েক গুণ। ইচ্ছামতো ভাড়া না পেলে যেতে রাজি হন না চালকরা। এ নিয়ে প্রতিদিনই চালক ও যাত্রীদের মধ্যে বচসা হতে দেখা দেয়। তাছাড়া কোন অজুহাত ছাড়াই ইচ্ছেমত ভাড়া বৃদ্ধি করে সিএনজি অটোরিক্সা চালকরা। তাদের কাছে অনেকটা জিম্মী বিয়ানীবাজারবাসী।
ভাড়া নিয়ে প্রতিবাদ করলে ওই সড়কে সিএনজি অটোরিক্সা চলাচল বন্ধ করে দেন চালকরা। কিংবা যে সময় যাত্রীদের যাতায়াত বেশী সেই সময়ে অটোরিক্সা চলাচলের পরিমাণ কমিয়ে দেন সংশ্লিষ্টরা। তাই এখন আর কেউ প্রতিবাদ করারও সাহস পান না। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েই যেতে হয় যাত্রীদের।
বিয়ানীবাজার পৌরশহরের সাথে যোগাযোগের জন্য উপজেলার অন্যান্য এলাকার বিকল্প কোনো গণপরিবহন না থাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাই একমাত্র ভরসা। আর এর সুযোগ নিচ্ছেন চালকরা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে হঠাৎ করে বিয়ানীবাজার-বারইগ্রাম সড়কের ভাড়া বাড়িয়ে দেন অটোরিক্সা চালকরা। কারো কোন অনুমতি না নিয়ে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি ভালো চোখে দেখছেননা ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যাত্রীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া নির্ধারণ করে স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনগুলো। ভাড়া বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তারা উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি কারো কোন অনুমতি নেয় না। সিএনজি চালিত অটোরিক্সাতে তিনজন যাত্রী নেওয়ার কথা থাকলেও নেওয়া হয় পাঁচজন । বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের প্রভাষক মো: জহির উদ্দিন বলেন, দাসউরা-বিয়ানীবাজার সড়কেও নিয়মিত ভাড়া বৃদ্ধি করেন শ্রমিকরা। এসব নিয়ে প্রতিবাদ করার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, প্রতিটি এলাকায় যেসব স্থান পরিবহণ স্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহার করা হয় এসব জায়গার ভাড়া আদায় করা উচিত।
সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক লুৎফুর রহমান জানান, গ্যাসের দাম বাড়ায় তারা ভাড়া বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন। নিরাপদ সড়ক চাই বিয়ানীবাজার শাখার দায়িত্বশীল শফিউর রহমান বলেন, জেলা কিংবা উপজেলা প্রশাসন থেকে অটোরিক্সা চালকদের সাথে বসে ভাড়া ঠিক করা দরকার। তা না হলে ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য চলতে থাকবে।
বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ দেবদুলাল ধর বলেন, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া নির্ধারণ করে দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
জেলা সিএনজিচালিত অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. জাকারিয়া বলেন, ২০১৫ সালের গেজেট অনুযায়ী সিএনজি মালিক সমিতি ভাড়া নির্ধারণ করে থাকে।