এমরান হোসেন পুস্প:
বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের নির্বাচন আগামী ২৯শে মে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উপজেলাজুড়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীরা। তবে একদলীয় এই নির্বাচন স্থানীয়ভাবে এখনো বেশ নিরুত্তাপ। উপজেলার গ্রামেগঞ্জে সর্বদলীয় নেতাকর্মীদের আশানুরুপ অংশগ্রহণ চোখে পড়েনি।

এরপরও দলীয় নেতাকর্মীদের ভোটকেন্দ্রে না যেতে কড়া বার্তা দিচ্ছে বিএনপি-জামায়াত। কোন প্রার্থীর পক্ষে যাতে তারা কাজ না করে সেজন্য দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিবৃত করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন বিএনপির দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ। যদিও দলীয় কর্মী-সমর্থকদের আটকানো সম্ভব হচ্ছেনা। অনেক পদবীধারী নেতাও ছুটছেন পছন্দের প্রার্থীর প্রচারণায়। তবে এক্ষেত্রে পুরোটাই ব্যতিক্রম জামায়াত-শিবির। তারা নির্বাচনী কোন কিছুতেই সম্পৃক্ত হচ্ছেনা। উপজেলায় বিএনপি-জামায়াতের বিপুল সংখ্যক ভোটার রয়েছেন। দুইজন জামায়াত ও দুইজন বিএনপি সমর্থক নেতা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইউপি সদস্য পদে আরো অন্তত: ৩০জন জনপ্রতিনিধির দায়িত্বে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি সমর্থক সাবেক এক ইউপি চেয়ারম্যান জানান, সামাজিকতা-আঞ্চলিকতার কারণে অনেক প্রার্থী আমার কাছে আসেন, দেখা করেন। তবে আমি কোন প্রার্থীর পক্ষেই প্রচারণা করছিনা। জামায়াত সমর্থক অপর আরেক ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, রাজনৈতিক কারণে নয় সামাজিক ও সম্প্রদায়গত কারণে বিরোধীমতের কোন জনপ্রতিনিধি কৌশলী প্রচারণায় থাকতে পারেন। আসলে তৃণমূলের নির্বাচনে সকল নেতাকর্মীকে ঘরে আটকে রাখা কঠিন।
সূত্র জানায়, বিয়ানীবাজার উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়নের অন্তত: শতাধিক পদবীধারী বিএনপি নেতা বিভিন্নভাবে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। কেউ হয়তো প্রকাশ্যে আসছেন। আত্মীয়তা, গ্রাম-গুষ্টি, সম্প্রদায়, আঞ্চলিকতাসহ আরো কিছু কারণে এসব নেতাকর্মী নির্বাচনী মাঠে প্রচার-প্রচারণায় আছেন। জাকির হোসেন সুমন নামের একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী বিগত দিনে মাথিউরায় ইউপি নির্বা্চনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছেন, তিনি এবার উপজেলায়ও চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করছেন। এর বাইরে বিয়ানীবাজারে আর কেউ নির্বাচন করছেননা।
বিয়ানীবাজার পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি কবির আহমদ বলেন, দলের পদবীধারী অনেক নেতার নির্বাচনী সম্পৃক্ততার ছবি জেলা ও কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। অচিরেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা বিএনপির সভাপতি এড. আহমদ রেজা জানান, বিভিন্ন পারিপ্বার্শিক কারণে হাতেগোনা দুই-একজন হয়তো নির্বাচনী প্রচারণায় সম্পৃক্ত হতে পারে। তবে দলীয় নেতাকর্মী কিংবা তাদের পরিবারের কেউ ভোটকেন্দ্রে যাবেনা। আমরা বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটরিং করছি। তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে গৃহবন্ধি রেখে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশনা অমান্য করে যারা ভোটকেন্দ্রে যাবে, তারা জাতীয়তাবাদী আদর্শের হতে পারেনা।
বিয়ানীবাজার উপজেলা জামায়াতের আমীর ফয়জুল ইসলাম বলেন, জামায়াত-শিবিরের কেউ নির্বাচনী সম্পৃক্ততায় নেই। কোন নেতাকর্মী ভোটকেন্দ্রেও যাবেনা।