গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের অফিস (OHCHR) এবং বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে সদ্য স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (MoU) নিয়ে বিস্তারিত মতামত দিয়েছেন।
এই তিন বছর মেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি মিশন গঠন করা হবে, যার লক্ষ্য মানবাধিকার সুরক্ষা ও বিকাশে সহায়তা প্রদান করা। এই মিশন সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সংগঠনগুলোকে প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা, আইনি সহায়তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সহায়তা করবে।
“২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের পরিপ্রেক্ষিতে এই উদ্যোগটি আমাদের সংস্কার এবং জবাবদিহিতার প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিফলন,” – লিখেছেন প্রধান উপদেষ্টা।
আদর্শিক উদ্বেগ এবং মূল্যবোধের প্রতি সম্মান
প্রধান উপদেষ্টা স্বীকার করেছেন যে, জাতিসংঘের কিছু মানবাধিকার সংস্থার আদর্শিক অবস্থান নিয়ে দেশের কিছু অংশের উদ্বেগ রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ একটি সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠা সমাজ, এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বে এই মূল্যবোধের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা থাকা উচিত।
“OHCHR মিশনটি শুধুমাত্র গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিরোধ ও প্রতিকারে কাজ করবে। এটি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত আইন, সমাজ এবং সংস্কৃতির বাইরে কোনো সামাজিক এজেন্ডা উৎসাহিত করবে না,” – বলা হয়েছে বিবৃতিতে।
স্বচ্ছতা ও সার্বভৌম কর্তৃত্ব
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, এই মিশনের কাজ সর্বদা স্বচ্ছতা বজায় রেখে এবং স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমে পরিচালিত হওয়া উচিত।
সরকার এই অংশীদারিত্ব থেকে নিজেদের সার্বভৌম প্রত্যাহারের অধিকার সংরক্ষণ করে, যদি দেখা যায় যে এটি জাতীয় স্বার্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
অতীত থেকে শিক্ষা
প্রধান উপদেষ্টা ফেসবুক পোস্টে স্মরণ করিয়ে দেন যে, বিগত সরকারের সময় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গণহত্যার মতো গুরুতর অপরাধ ঘটেছিল, যেগুলো দায়মুক্তি পেয়েছিল। তখন যদি এই ধরনের একটি সংস্থা কার্যকর থাকত, তাহলে হয়তো অনেক অপরাধ তদন্ত ও বিচারাধীন হতো।
“আজকের দিনে মানবাধিকারের প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি আদর্শের ভিত্তিতে নয়, ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে হতে হবে,” – জোর দিয়ে বলেন তিনি।
ভবিষ্যতের পথে
প্রধান উপদেষ্টা এই অংশীদারিত্বকে একটি সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন, যার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করা এবং নাগরিকদের সুরক্ষা বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে – যা হবে আইনের দ্বারা পরিচালিত, মূল্যবোধ দ্বারা অনুপ্রাণিত এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধ।
সূত্র:
বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক প্রোফাইলে প্রকাশিত প্রেস বিবৃতির আলোকে।
প্রকাশকাল: ১৯ জুলাই ২০২৫
অফিশিয়াল তথ্যের জন্য প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইল অনুসরণ করুন।
প্রধান সম্পাদক. ফয়জুল হক শিমুল , সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মিসবাহ উদ্দিন।
বার্তা সম্পাদকঃ জাহিদ উদ্দিন। উপ-সম্পাদক ও ডাইরেক্টরঃ এম এ তাহের।
আইন উপদেষ্টাঃ এইচ এম শাকিল এডভোকেট, জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: * সি-৮/৩০ বনশ্রী ঢাকা।
সিলেট অফিস: কমন মার্কেট (৫ম তলা ) বন্দর বাজার, সিলেট।
বিয়ানীবাজার অফিস: ছফর কমপ্লেক্স, দক্ষিণ বিয়ানীবাজার, সিলেট।
© ২০২৪ নিউজমিরর২৪.কম. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।